• হোম > বাংলাদেশ > রূপপুর গ্রিন সিটিতে সরঞ্জাম কেনায় ১৮৭ কোটি টাকার ক্ষতি, সিএজির নিরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

রূপপুর গ্রিন সিটিতে সরঞ্জাম কেনায় ১৮৭ কোটি টাকার ক্ষতি, সিএজির নিরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৬
  • ৬২

---

রূপপুর প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে পরিশোধ ২১৩ কোটি টাকা, সিএজির নিরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসনে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের সরঞ্জাম প্রকৃত মূল্যের প্রায় আট গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে সরকারের প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

সিএজির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ হাজার ৬৬০ কেভি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপনের সরঞ্জাম, জেনারেটর, ১১টি ভবনের লিফট, এয়ার কুলার, সোলার প্যানেল, সিসি ক্যামেরা, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, ইন্টারনেট সংযোগ এবং সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প স্থাপনে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, মেসার্স সাজিন এন্টারপ্রাইজ এবং এমএসসিএল-জিকেবিপিএল (জেভি)—এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে। সরবরাহকৃত পণ্যের প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা। কিন্তু পিডব্লিউডি সিডিউল অব রেটস-২০১৮ অনুসরণ না করে যোগসাজশের মাধ্যমে ঠিকাদারদের মোট ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সিএজির হিসাবে, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনায় প্রকৃত মূল্যের প্রায় ৭ দশমিক ৯২ গুণ বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস্টিমেট কমিটি গঠন না করে বাজারদর ও সরকারি নির্ধারিত সিডিউলের চেয়ে বেশি দরে ব্যয় প্রাক্কলন তৈরি করে ঠিকাদারদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য, বিল অনুমোদনকারী কর্মকর্তা এবং বিল পরিশোধকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আপত্তিকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বালিশ ও ড্রেসিং টেবিল কেনায়ও অনিয়ম

শুধু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নয়, গ্রিন সিটি প্রকল্পে বালিশ ও ড্রেসিং টেবিল কেনাতেও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

সিএজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ হাজার ৭০২টি বালিশ কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এতে প্রতিটি বালিশের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫০৩ টাকা। অথচ নিরীক্ষা দল একই ধরনের বালিশের বাজারদর পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১৫৪ টাকা। ফলে এ খাতে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৩টি বালিশ প্রতিটি ২৯ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং ৬০টি বালিশ প্রতিটি ৮৯ হাজার ৯০০ টাকায় কেনা হয়েছে, যা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি।

অন্যদিকে, ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রতিটির গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩৭৯ টাকা। তবে সিএজির নিরীক্ষা অনুযায়ী, একই ধরনের ড্রেসিং টেবিলের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৫০৩ টাকা। এতে সরকারের আরও প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

মোট অনিয়মের পরিমাণ ২৯৪ কোটি টাকা

সিএজি জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরকারি কেনাকাটাসহ মোট ১০টি বিষয়ে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৯৪ কোটি টাকা।

এছাড়া নির্ধারিত পণ্য সরবরাহ না করেও বিল পরিশোধ, নকশা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত পরিমাপ দেখিয়ে অর্থ প্রদান, উৎসে ভ্যাট কর্তন না করা এবং অস্বাভাবিক কম দর ব্যাখ্যা ছাড়াই চুক্তি সম্পাদনের মতো বিভিন্ন অনিয়মও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএজি জানায়, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসনের হিসাবের ওপর পরিচালিত কমপ্লায়েন্স অডিটে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। ওই পাঁচ বছরে প্রকল্পটির জন্য ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ২২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সিএজির এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12862 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 01:00:10 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh