• হোম > অর্থনীতি > ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড

  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ২২:৫৮
  • ৪৫

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো পরিবহন, জাহাজ আগমন এবং রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মঙ্গলবার প্রকাশিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে এ অর্থবছরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউ। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি টিইইউ।

কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বন্দর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টন কার্গো ওঠানামা হয়েছে, যা আগের বছরের ১৩ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টনের তুলনায় ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার টন। একই সময়ে জাহাজ আগমনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বন্দরে ভিড়েছে ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ, যা আগের বছরের ৪ হাজার ৭৭টির তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৭১টি।

পরিচালন দক্ষতাও বেড়েছে বন্দরের। কনটেইনারবাহী একটি জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে, যা জাহাজ পরিচালনায় অধিক দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়।

আর্থিক সূচকেও বড় অগ্রগতি এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায়। আগের অর্থবছরে রাজস্ব ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের সুফলের ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

রেকর্ড অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের পরিচালন ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকায়, যেখানে আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। ফলে প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যয় কমলেও বন্দরের সেবার মান বা কার্যক্রমে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12829 ,   Print Date & Time: Saturday, 22 August 2026, 08:05:23 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh