• হোম > বাংলাদেশ > ফুলেল শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনারে শেষ বিদায় মুস্তাফা মনোয়ারের

ফুলেল শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনারে শেষ বিদায় মুস্তাফা মনোয়ারের

  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ২১:২৭
  • ৯০

---

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শিল্পগুরু মুস্তাফা মনোয়ার

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ফুলেল শ্রদ্ধা, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেটম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফা মনোয়ারকে। দুই দফা নামাজে জানাজা শেষে মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিল্পগুরুর মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম নামাজে জানাজা। জানাজায় সহকর্মী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নিয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

পরে বেলা ১১টার দিকে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে মুস্তাফা মনোয়ারের দীর্ঘ কর্মময় জীবন, শিল্পসাধনা এবং দেশের সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন সহকর্মী, ছাত্র এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, চিত্রকলার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমেও মুস্তাফা মনোয়ারের অসাধারণ জ্ঞান ও দক্ষতা ছিল।

বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, তিনি যে ক্ষেত্রেই কাজ করেছেন, সেখানেই নিজের মেধা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। শিল্পী ও প্রযোজক—সবাই তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বাংলার লোকজ শিল্পকে আধুনিক নাগরিক সমাজে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান অনন্য।

অভিনেতা ও নাট্যকার মামুনুর রশীদ বলেন, তাঁর অবদান ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণ দেশের শিল্প-সংস্কৃতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কাছ থেকে দেশ আরও অনেক সৃজনশীল কাজ পেতে পারত।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সবাই সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ পরিবেশন করেন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন শিল্পীদের শিল্পী, বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার।

চিত্রকলা, পাপেট, শিশুতোষ অনুষ্ঠান, লোকজ সংস্কৃতি এবং গণমাধ্যমে অসামান্য অবদানের জন্য মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12817 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 08:07:23 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh