![]()
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। তবে সাজাগুলো একত্রে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণার পর কারাগারে নেওয়ার সময় হাসানুল হক ইনু বলেন, পাকিস্তান ভাঙার কারণে বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ৫৫ বছর পর স্বাধীনতা অর্জনের কারণেই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি রায়ের নিন্দা জানান।
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ।
এর মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো কারও বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা হলো। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
এর আগে গত ১৪ মে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে।