• হোম > বাংলাদেশ | স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার, বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার, বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৩:৫০
  • ৩৪

স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার, বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশের মানুষের জন্য একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসাসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, যাতে গ্রামীণ জনগণ চিকিৎসার জন্য দূরদূরান্তে যেতে বাধ্য না হন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাবেন। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধাসহ জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা এবং আধুনিক প্যাথলজি সেবা সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দিয়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা হাসপাতালগুলোকেও আধুনিকায়নের আওতায় আনা হবে। সেখানে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের মাধ্যমে জনবল সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গঠন এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশেষভাবে ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেলের আদলে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকবে এবং সেখানে তিনজন প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার দায়িত্ব পালন করবেন।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইলেকট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চিকিৎসক রোগীর আগের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন। প্রথম ধাপে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের জন্য ১৬২ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শিগগিরই পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন, যার ফলে স্বাভাবিক প্রসবসহ মাতৃস্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তার মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে কার্যকর সেকেন্ডারি হেলথ কেয়ার কেন্দ্রে উন্নীত করা হলে মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12763 ,   Print Date & Time: Thursday, 20 August 2026, 10:16:42 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh