![]()
নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির করা নাটকীয় গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল।
ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাস থেকে মার্টিনেল্লি দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে বল জালে পাঠান। এই জয়ে ব্রাজিল পরবর্তী রাউন্ডে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি আগামী রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথমার্ধে জাপান দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় এবং ২৯তম মিনিটে এগিয়েও যায়। দানিলোর ভুল পাস কাইশু সানো কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করেন। তার জোরালো শটে জাপান ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত জাপানি সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠে।
প্রথমার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে জাপান। তাদের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সংগঠিত; প্রতিটি পাস ভেঙে দেওয়া, জায়গা সংকুচিত করা এবং বল পেলেই ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের চাপে রাখা ছিল তাদের কৌশল।
বিরতির পর ব্রাজিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। এর ফল আসে ৫৬তম মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের ক্রস থেকে মাঝমাঠের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কাসেমিরো ডিফেন্ডারকে হারিয়ে হেডে সমতা ফেরান।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ম্যাচ শেষে বলেন,
“আমরা ধৈর্য হারাইনি। মাঠে এবং বেঞ্চে আমাদের অনেক বিকল্প ছিল। জাপান খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা অত্যন্ত সংগঠিত এবং তীব্র গতিতে খেলে।”
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত সময়ের জন্য নেইমারকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
“আমি নেইমারকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। যদি আমরা দ্বিতীয় গোলটি করতে না পারতাম, তাহলে ১০৫তম মিনিটে তাকে মাঠে নামানো হতো। দল ভালো খেলছিল, তাই কৌশল পরিবর্তন করতে চাইনি।”
সমতা ফেরানোর পরও ব্রাজিলকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির অসাধারণ সেভে পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারায়েস বক্সের কিনারা থেকে চমৎকার একটি থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন মার্টিনেল্লির উদ্দেশে। সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। নিখুঁত ফিনিশে তিনি ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
গোল করার পর আবেগাপ্লুত মার্টিনেল্লি বলেন,
“আমি এখন কী অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কিছু সময় পর হয়তো বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারব। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে আজ গোল করতে পেরেছি। দলের জন্য আমি ভীষণ আনন্দিত। সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সত্যিই আমার বলার মতো কোনো ভাষা নেই।”
এই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় জাপানের। অন্যদিকে, ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
*হিউস্টন, ৩০ জুন (রয়টার্স):*