• হোম > খেলা | ফুটবল > আনচেলত্তির যে কৌশলে জাপানি ফাঁদ থেকে রক্ষা পেল ব্রাজিল

আনচেলত্তির যে কৌশলে জাপানি ফাঁদ থেকে রক্ষা পেল ব্রাজিল

  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:২৯
  • ৩৫

আনচেলত্তির যে কৌশলে জাপানি ফাঁদ থেকে রক্ষা পেল ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে স্কোরলাইন যতটা স্বস্তিদায়ক, ম্যাচটি মোটেও ততটা সহজ ছিল না। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে প্রথমার্ধজুড়ে ব্রাজিলকে চাপে রেখেছিল হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা। কৌশলগত শৃঙ্খলা, আক্রমণাত্মক প্রেসিং এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে থেকেও বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় জাপান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কার্যকর কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল তাদের পরিচিত ভার্টিক্যাল ফুটবল খেলতে চেয়েছিল। মাঝমাঠ ব্যবহার করে হাফ-স্পেসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাথেউস কুনিয়ার গতি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল আনচেলত্তির। কিন্তু জাপান ৫-৪-১ ও ৫-৩-২ ফরমেশনের সমন্বয়ে অত্যন্ত কম্প্যাক্ট রক্ষণ সাজিয়ে মাঝমাঠের সব পথ প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে আক্রমণের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে দুই ফুলব্যাক দানিলো ও ডগলাস সান্তোসের ওপর। তবে দুজনই ভেতরের দিকে খেলতে বেশি স্বচ্ছন্দ হওয়ায় উইং দিয়ে কার্যকর আক্রমণ কিংবা মানসম্মত ক্রস তৈরি করতে পারেননি।

কুলিং ব্রেকের পর জাপান আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তারা ৩-৪-৩ ফরমেশনে হাই প্রেসিং শুরু করে ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক, ফুলব্যাক ও হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের ওপর একযোগে চাপ সৃষ্টি করে। এতে ব্রাজিলের বিল্ড-আপ প্রায় অচল হয়ে যায়। সেই চাপের ফল হিসেবেই আসে জাপানের গোল। দানিলোর ভুল পাস এবং কাসেমিরোর রক্ষণাত্মক অবস্থানগত ভুলের সুযোগ নিয়ে কাইশু সানো দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে জাপানকে এগিয়ে দেন।

বিরতির সময়ই ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট এনে দেন আনচেলত্তি। চোট পাওয়া লুকাস পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামিয়ে তাকে প্রথাগত সেন্টার ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় খেলান। অন্যদিকে মাথেউস কুনিয়াকে কিছুটা নিচে নামিয়ে আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের সংযোগ তৈরি করেন। এর ফলে জাপানের রক্ষণভাগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং ব্রাজিল আরও বেশি জায়গা পেতে শুরু করে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল উইং ব্যবহার করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাতে থাকে। ডান ও বাম প্রান্ত থেকে আসা ক্রস জাপানের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে এবং অবশেষে একটি ক্রস থেকেই সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো। গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি সেলেসাওরা। ওয়াইড এরিয়ায় জাপানের মনোযোগ বাড়ায় মাঝমাঠেও ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে থাকে, যা কাজে লাগিয়ে আরও দ্রুত আক্রমণ গড়তে থাকে ব্রাজিল।

ম্যাচটি যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। জাপানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, বিরতিতে খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের কাঠামো বজায় রাখতে বলেছিলেন তিনি। তার বিশ্বাস ছিল, সঠিক অবস্থান ধরে রেখে খেলে গেলে সুযোগ আসবেই। দ্বিতীয়ার্ধে সেই পরিকল্পনাই সফল হয়। ওয়াইড এরিয়া থেকে আক্রমণ তৈরি করে ব্রাজিল একদিকে যেমন ক্রসের মাধ্যমে গোল পায়, অন্যদিকে মাঝমাঠেও পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করে শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল আদায় করে নেয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12755 ,   Print Date & Time: Thursday, 20 August 2026, 06:12:48 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh