• হোম > অর্থনীতি > অর্থবিল পাস: করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, থাকছে না কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

অর্থবিল পাস: করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, থাকছে না কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০০:১১
  • ৫৪

অর্থবিল পাস: করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, থাকছে না কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

সংসদ সদস্যদের আলোচনা-সমালোচনা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি ‘অর্থবিল-২০২৬’।

সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

পাস হওয়া অর্থবিলে ব্যক্তিপর্যায়ের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক রাখার বিধান প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বহুল আলোচিত অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা গেলেও ওই অর্থের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারবে। ফলে আগের মতো দায়মুক্তির সুবিধা আর থাকছে না।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইনে তাদের বেতন, ব্যবসা ও কৃষি আয়ও করমুক্ত রাখা হয়েছে।

বিলটি পাসের আগে কয়েকজন সংসদ সদস্য ঘাটতি বাজেট, কর-ভ্যাটের চাপ, ব্যাংক খাতের সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। আলোচনা শেষে সংশোধনী গ্রহণ করে বিলটি পাস হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও কার্যকর নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করছে। তিনি জানান, সরকার ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত আর্থিক অপরাধসংক্রান্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে-বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12735 ,   Print Date & Time: Sunday, 16 August 2026, 06:28:57 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh