• হোম > দেশজুড়ে | বাংলাদেশ > ‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫:৩৮
  • ৬২

‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মানুষের তিস্তা ও পানিসংকটের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার পদ্মা ও তিস্তা—উভয় নদীকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।”

কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজ চলছে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকদের কাছে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতি ও খেলাধুলায় গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন এবং সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র আওতায় এনে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও জানান, দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালু করা হবে। পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির আদলে নতুন একটি ক্রীড়া কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রবাসী কার্ড ও জ্বালানি খাতে উদ্যোগ

বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে সরকার নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের সরকারি সেবা সহজ করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে যুবসমাজের জন্য একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12717 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 05:07:35 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh