![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও এমন একটি বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পান।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সদস্য হিসেবে আমি এই বাজেটের একটি নাম দিতে চাই। সেটি হলো—জীবনবান্ধব বাজেট।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এখন সময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। তার ভাষায়, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাই, তখন অনেক বেশি অতীত নিয়ে আলোচনা করি। অথচ দেশের মানুষ চায় আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।’
সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। সমাপনী বাজেট আলোচনায় প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সর্বোচ্চ বিবেচনা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট উপস্থাপনের পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়নি। অতীতে বাজেটের আগে বা পরে অনেক পণ্যের দাম অকারণে বেড়ে যেত, কিন্তু এবার সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে পূর্বনির্ধারিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে ভোক্তারা স্বস্তি পান।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে সরকার। তার ভাষায়, ‘আমরা হয়তো কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।’
অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, অর্থপাচার, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, বিনিয়োগ ও উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছিল, মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছেছিল। পুঁজিবাজারের দুরবস্থার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে নেওয়া বেশ কিছু ‘ভ্যানিটি প্রকল্পের’ কারণে দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে। এসব প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব না আসায় দীর্ঘ সময় ধরে জাতিকে সেই ঋণের চাপ বহন করতে হবে।
তবে সংকটকে অস্বীকার না করলেও এটিকে অজুহাত বানাতে চান না বলে জানান তিনি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ ধীরে ধীরে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।