![]()
দেশে গত ১২ থেকে ১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দেশে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম সৃষ্টি হয়েছে। আগে থেকেই যাদের শিল্প-কারখানা ছিল, তারাই মূলত আরও বড় হয়েছেন। এর অন্যতম কারণ ছিল শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট।
তিনি বলেন, ‘১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই হার নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পদের প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। আয় বৈষম্য বৃদ্ধির এটি একটি বড় কারণ।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দেশে আয় বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বৈশ্বিক আয় বৈষম্য সূচকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সূচক শূন্য থেকে একের মধ্যে নির্ধারণ করা হয় এবং সূচকের মান যত বাড়ে, বৈষম্যও তত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় এই বৈষম্য এখন অনেক বেশি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতের অবদান এখনও কম। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, অর্থনীতির টেকসই গতিশীলতা বজায় রাখতে এমএসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এজন্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার নীতি সহায়তা, সহজ অর্থায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তাই এমএসএমই খাতের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।