ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত করলেন দেশের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট প্রতিষ্ঠান মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) তাকে আজীবন সম্মানসূচক সদস্যপদ (Honorary Life Membership) প্রদান করেছে।
রোববার এক ঘোষণায় এমসিসি জানায়, এ বছর পাঁচজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যক্তিত্বকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তামিম ইকবালের পাশাপাশি সম্মানসূচক সদস্যপদ পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটস ও সোফি ডিভাইন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মেল জোন্স এবং ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা।
বাংলাদেশ থেকে খুব অল্পসংখ্যক ক্রিকেটার এর আগে এমসিসির এই সম্মান অর্জন করেছেন। সেই সংক্ষিপ্ত তালিকায় এবার যুক্ত হলো তামিম ইকবালের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের পর প্রশাসক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও তিনি পেলেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি।
২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় তামিমের। এরপর বাংলাদেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ৭০টি টেস্ট, ২৪৩টি ওয়ানডে এবং ৭৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার সংগ্রহ ১৫ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার দখলে।
বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে তামিম ইকবালের অবদান অনন্য। ২৪৩ ম্যাচে তিনি করেছেন ৮ হাজারের বেশি রান, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি দেশের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
লর্ডসের সঙ্গে তামিমের সম্পর্কও বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সেঞ্চুরি করে তিনি স্থান করে নেন বিখ্যাত লর্ডস অনার্স বোর্ডে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য যা এখনো অত্যন্ত বিরল একটি অর্জন। সেই লর্ডসের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান এমসিসির আজীবন সম্মানসূচক সদস্যপদ পাওয়ায় এই স্বীকৃতির মর্যাদা আরও বেড়ে গেল।
এর আগেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তামিম। ২০১১ সালে তিনি উইজডেন ক্রিকেটার্স’ অ্যালমানাক-এর বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের একজন নির্বাচিত হন। একই বছর উইজডেনের টেস্ট ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার সম্মানও অর্জন করেন তিনি।
এবারের তালিকায় থাকা অন্য চার ক্রিকেট ব্যক্তিত্বও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের অধিকারী। নিউজিল্যান্ড নারী দলের দুই কিংবদন্তি সুজি বেটস ও সোফি ডিভাইন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাজার হাজার রান ও অসংখ্য রেকর্ডের মালিক। অস্ট্রেলিয়ার মেল জোন্স খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি ধারাভাষ্য ও নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে ভারতের চেতেশ্বর পূজারা টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
এমসিসির প্রধান নির্বাহী ও সেক্রেটারি রব লসন নতুন পাঁচ সম্মানসূচক সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ক্রিকেটে তাদের দীর্ঘদিনের অবদানই এই স্বীকৃতির ভিত্তি। ভবিষ্যতে লর্ডসে এমসিসির সদস্য হিসেবে তাদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে ক্লাবটি।
তামিম ইকবালের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এক বড় সম্মান। মাঠে ব্যাট হাতে যেমন দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন, তেমনি এবার বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট প্রতিষ্ঠানের সম্মানসূচক সদস্য হয়ে দেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনলেন তিনি।