• হোম > অর্থনীতি > সরকারি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন

সরকারি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন

  • রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৯:৪২
  • ৬০

---

সরকারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অনুমোদন

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি) অর্থায়নের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

রোববার (২৮ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। ‘স্ট্রেন্থেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ, সরকারি ক্রয়, তথ্যব্যবস্থা এবং নিরীক্ষা কার্যক্রমে আধুনিকায়ন ও সংস্কারে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালের ১২ জুন অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় সরকারের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় (ওসিএজি)।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্য ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে, যাতে নীতিনির্ধারণে নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষেত্রে অটোমেশন, ই-ইনভয়েসিং এবং সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম চালুর মাধ্যমে কর প্রশাসনকে আরও আধুনিক করা হবে। এর ফলে কর পরিপালন বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা বিভাগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে।

এছাড়া বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপি (e-GP) ব্যবস্থায় উন্নত ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করবে, যাতে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

প্রকল্পের মাধ্যমে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের অডিট কার্যক্রমও ডিজিটাল করা হবে। এর ফলে অডিট রিপোর্ট প্রকাশের সময় ৭২ মাস থেকে কমিয়ে মাত্র ৯ মাসে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়, তথ্যের মান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্প কার্যকর ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন আরও জোরদার করবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে শক্তিশালী, দক্ষ ও স্বচ্ছ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। তিনি জানান, ‘সিটা’ প্রকল্প সরকারের মূল প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলোকে আধুনিকীকরণ করবে, তথ্যের মান উন্নত করবে এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12663 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 02:15:41 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh