• হোম > বাংলাদেশ > ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব মাহবুব উদ্দিন খোকনের

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব মাহবুব উদ্দিন খোকনের

  • রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৫:৪৫
  • ৪৫

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব মাহবুব উদ্দিন খোকনের

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জাতীয় সংসদে ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজদের অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা, অর্থপাচার রোধ এবং কালো টাকার উৎস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ ব্যাংকের বাইরে নিজ নিজ বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অনেক ব্যক্তিও নগদ অর্থ রেখে গেছেন। তার মতে, সরকার যদি ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

তিনি প্রস্তাব করেন, যাদের অর্থের বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তারা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করে সেই অর্থ বৈধ করতে পারবেন। এতে ব্যাংকে তারল্য বাড়বে, বিনিয়োগে গতি আসবে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যাংকিং খাত নিয়েও সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে।

তার ভাষায়, ‘এমপি হলেই একটি ব্যাংক, নেতা হলেই একটি লিজিং কোম্পানি—এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।’

তিনি ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

অর্থপাচার প্রসঙ্গে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানেই চলে যায়।’ তাই শুধু পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা না করে, এমন একটি আর্থিক ও আইনি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ দেশের মধ্যেই অর্থ রাখতে আস্থা পাবে।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাজেট প্রণয়ন একটি কঠিন কাজ ছিল। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12647 ,   Print Date & Time: Tuesday, 25 August 2026, 08:26:48 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh