![]()
ইসরায়েলের সাবেক আইনমন্ত্রী ড্যানিয়েল ফ্রিডম্যান দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এবং ইসরায়েলকে ‘নজিরবিহীন অপমানের’ মুখে ফেলেছেন।
শনিবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র মারিভ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
গাজা যুদ্ধ ও বদলে যাওয়া বিশ্বজনমত
ফ্রিডম্যান বলেন, বিশ্ব এখন গাজার ধ্বংসস্তূপ, নিহত শিশু, আহত বেসামরিক মানুষ এবং মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র দেখছে। তার মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাসের বিরুদ্ধে যে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জনমতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের মাধ্যমে কিছু সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা অর্জিত হলেও এর বিনিময়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সমর্থন ও কূটনৈতিক অবস্থান অনেকটাই হারিয়েছে।
পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরমপন্থী ইহুদি সহিংসতা এবং আরব ও ইহুদি হামলাকারীদের প্রতি ভিন্ন আচরণের সমালোচনা করেন ফ্রিডম্যান। তার মতে, সরকারের কিছু মন্ত্রী ও জোটসঙ্গীদের উসকানিমূলক বক্তব্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা দুর্বল করছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রভাব ও নেতানিয়াহুর দুর্বলতা
ফ্রিডম্যানের দাবি, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে ট্রাম্প ইসরায়েলের ওপর আগের চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে একটি ব্যর্থ অভিযানের পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে কাতারের নেতৃত্বের কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে কাতারের ভূখণ্ডে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করেন। তিনি এটিকে ইসরায়েলের জন্য ‘নজিরবিহীন অপমান’ বলে উল্লেখ করেন।
ইরান চুক্তি নিয়েও সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত সমঝোতারও সমালোচনা করেন ফ্রিডম্যান। তার মতে, ওই সমঝোতা লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পরিসর সীমিত করেছে এবং এতে ইসরায়েলের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে আগ্রহী ছিলেন এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের স্বার্থকেও ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিলেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ
ফ্রিডম্যান অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার দাবি, গাজা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে রাজনৈতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পেরেছেন।
তবে তিনি ট্রাম্পের ভূমিকাকে পুরোপুরি অস্বীকারও করেননি। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা এবং গাজার দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা
নিবন্ধের শেষাংশে ফ্রিডম্যান বলেন, ইসরায়েল এখন দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তার মতে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দেশটি কী ধরনের রাষ্ট্র হতে চায় এবং যে আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে পারবে কি না।
তিনি সতর্ক করেন, জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদেশি শক্তির অতিরিক্ত প্রভাব শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।