![]()
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন নিয়েও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়েও আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, তাদের স্কোয়াডের গভীরতাও যথেষ্ট শক্তিশালী।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১৭ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জিওভানি লো সেলসো। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন এই মিডফিল্ডার। এর আগে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে তার আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল।
৩১ মিনিটে মার্কোস সেনেসিকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট-কিক থেকে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। আগের আসরে গোলশূন্য থাকা এই ফরোয়ার্ড অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের অপেক্ষার অবসান ঘটান। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর জর্ডান লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে। ৫৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মুসা আল তামারির নিচু ক্রসে পা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি নিজেই। এই গোলেই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ায় কোনো প্রতিপক্ষ। এর আগে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া গোল করতে পারেনি।
৬০ মিনিটে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে বদলি হিসেবে নামেন থিয়াগো আলমাদা ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। মাঠে নেমেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক দুর্দান্ত শটে জালে জড়ান মেসি। সেই গোলেই স্কোরলাইন হয় ৩-১। একই সঙ্গে টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে ৫৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জাইরজিনিওর রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্কালোনির দল। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে অভিষেকেই চমক দেখানো কেপ ভার্দে।