• হোম > অর্থনীতি > শুল্কছাড়ের মেয়াদ শেষ, জুলাই থেকে বাড়বে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের দাম

শুল্কছাড়ের মেয়াদ শেষ, জুলাই থেকে বাড়বে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের দাম

  • রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৫০
  • ৩৬

শুল্কছাড়ের মেয়াদ শেষ, জুলাই থেকে বাড়বে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের দাম

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে আমদানিকৃত অফিসিয়াল স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ওপর বিদ্যমান শুল্কছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এর ফলে বৈধভাবে আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবৈধ বা গ্রে-মার্কেটের হ্যান্ডসেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বৈধ আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার আমদানিকৃত স্মার্টফোনের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে। এই সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকায় আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের কার্যকর করহার ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছিল।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্কছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর করহার আবার ৬৪.২৫ শতাংশে ফিরে যাবে।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহিদ বলেন, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ, প্রসেসর, মাদারবোর্ড ও ব্যাটারির দাম বাড়তে থাকায় উৎপাদন ব্যয় আগেই বেড়েছে। এর সঙ্গে আমদানি শুল্কও বাড়লে স্মার্টফোনের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে অনেক ক্রেতা আবারও গ্রে-মার্কেটের ফোনের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

শুল্কছাড় প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে এনবিআরের এক কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, বৈধ আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে প্রত্যাশিত হারে আমদানি কিংবা স্থানীয় উৎপাদন—কোনোটিই বাড়েনি। তাই এই প্রণোদনার মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে এন্ট্রি-লেভেল ও মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনের সংযোজন শিল্প গড়ে উঠলেও অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির মতো ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ফলে অতিরিক্ত করের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে এসব ডিভাইসের ওপর।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুরের মতে, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং ই-কমার্সের জন্য এটি অপরিহার্য। তাই স্মার্টফোনের ওপর অতিরিক্ত কর কমানো প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ না পড়ে।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুল্ক কমানোর আগেই যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের হ্যান্ডসেটের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। নতুন করে করহার বাড়লে বৈধ ও অবৈধ বাজারের দামের ব্যবধান আরও বাড়বে। যদিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করেছে, তবুও গ্রে-মার্কেটের ফোনের সহজলভ্যতা এখনো কমেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ করের কারণে বৈধ আমদানি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যও বাধার মুখে পড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12631 ,   Print Date & Time: Tuesday, 25 August 2026, 02:22:05 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh