![]()
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত নতুন নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এই চুক্তিকে ইসরাইলের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যা দেন। চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই হিজবুল্লাহর এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া সামনে এলো।
নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ ঘোষণা করে অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার একতরফাভাবে ছাড় দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্তের সঙ্গে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করায় তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তার দাবি, এতে ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং লেবাননের সব ‘লাল সীমা’ অতিক্রম করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, তাদের সংগঠন সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যাইনি এবং এখনো যাব না।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মাসের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক, যেখানে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, সেটিকেই সংঘাত নিরসনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে চুক্তির পরদিনই দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সেখানে তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল এমন এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তারা কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
হিজবুল্লাহ ও ইরানের অভিযোগ, দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন লেবাননে সংঘাত কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন নিরাপত্তা কাঠামো অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননের বিস্তৃত একটি নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থানের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।