![]()
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি অর্থের কোনো ধরনের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না। বাজেটের প্রতিটি অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা বাজেট প্রপারলি ইউটিলাইজ করতে হবে।’
শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় হলেও ভবিষ্যতে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মেধার প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষায় আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম আবাসনের ব্যবস্থা করতে না পারলে বড় বাজেটের কোনো অর্থ থাকে না। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে আবাসন সংকট নিরসনে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বুয়েটের পূর্বাচল ক্যাম্পাসের জন্য বরাদ্দকৃত জমির বকেয়া অর্থ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এককালীন পরিশোধ করবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে জমি কেনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়; রাষ্ট্রই এর একাডেমিক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে বুয়েটে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যালামনাই কন্ট্রিবিউশন ফান্ড গঠনের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. মিলন বলেন, দেশের সেরা মেধাবীদের সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে আবাসন সংকট দূর করার পাশাপাশি বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ নামে একটি নতুন ছাত্র হল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তার আশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, নবাগত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।