![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টা ২ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পুনরায় শুরু হয়েছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে তিনি সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্য শেষে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দুটি দেশ সফর করেছেন, উভয় দেশই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক বেশি। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও ভবিষ্যতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের বড় সুযোগ রয়েছে। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে এসব গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় দুই দেশের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ সব চুক্তি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে অবগত থাকলে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রতিটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হতে হবে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণের ভিত্তিতে।
সংসদের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক নয়। একই সঙ্গে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। পাশাপাশি সরকারের সফলতা কামনা করে উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি নিজের সমর্থনও জানান।