• হোম > অর্থনীতি > বিশ্বব্যাংকের ১.১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পেল বাংলাদেশ, খাদ্যনিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে বড় স্বস্তি

বিশ্বব্যাংকের ১.১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পেল বাংলাদেশ, খাদ্যনিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে বড় স্বস্তি

  • শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৮:৩৬
  • ৪৪

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে চলমান অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক, নিম্নআয়ের মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক।

অনুমোদিত অর্থায়নের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংক প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির অর্থায়ন করবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। এতে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন নিশ্চিত করতে সহায়তা মিলবে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট সোলেমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুমে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। তাই সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের মাধ্যমে সংকটকালীন জরুরি ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করা হবে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় ব্যবহার করা হবে।

একই সঙ্গে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিরাপদ পানির মতো জরুরি সেবা সচল রাখতেও এই প্রকল্পের আওতায় অর্থায়ন করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। বিদ্যমান প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে দ্রুত সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে, যা মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে আকস্মিক সংকটের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থায়ন কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12583 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 03:51:17 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh