• হোম > বাংলাদেশ > বাংলাদেশে বিপুল চীনা বিনিয়োগ আসবে, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে বিপুল চীনা বিনিয়োগ আসবে, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

  • শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৮:১৮
  • ৪২

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশে আগামী দিনে চীনের বিপুল বিনিয়োগ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে ৮০০ একর জায়গাজুড়ে একটি চাইনিজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এবং সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সব পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। এখন সেই সুযোগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “চীন ইতোমধ্যে আমাদের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো বাংলাদেশে বেশি বেশি চায়নিজ বিনিয়োগ আনা। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলে আগামী দিনে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চীন-মিয়ানমার করিডোরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাঁর ভাষায়, “এই করিডোর চালু হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”

সিলেট শাহজালাল (রহ.) মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, কমিটি গঠনে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি; বরং প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করেই এটি গঠন করা হয়েছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার মতো বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালু করা গেলে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনি সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে আইনটি দ্রুত পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12581 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 03:08:25 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh