• হোম > এশিয়া | বিদেশ > ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত কলকাতার ব্যবসায়ীরা

ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত কলকাতার ব্যবসায়ীরা

  • শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০
  • ৫২

ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত কলকাতার ব্যবসায়ীরা

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে হোটেল, বিপণিবিতান ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতে। একই সঙ্গে গতি ফিরবে ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোলের ব্যবসায়ও।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিটসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাজারেরও বেশি ছোট-বড় আবাসিক হোটেল। দীর্ঘদিন পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় এসব হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলে কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশি পর্যটক ফিরে এলে নিউমার্কেটসহ শহরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলো আবারও আগের মতো ব্যস্ত হয়ে উঠবে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক মানুষ দীর্ঘদিন কলকাতায় অবস্থান করেন। এ সময় তারা কেনাকাটাও করেন, যা স্থানীয় বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করে।

একজন হোটেল মালিক বলেন, “পর্যটক এলেই ব্যবসা ভালো হয়। বাংলাদেশি পর্যটক ফিরে এলে আমাদের হোটেল খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

পর্যটন ভিসা স্বাভাবিক হওয়ায় পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি ও খুচরা ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতের সংকট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসা, কেনাকাটা ও ভ্রমণ—বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কলকাতায় যাতায়াত করেন। ভিসা বন্ধ থাকায় সেই প্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

নিউমার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের ব্যবসার বড় অংশই বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। এখন ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি অনেক কমে গেছে। ভিসা চালু হলে সবারই উপকার হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, হোটেল বুকিং বৃদ্ধি, কেনাকাটা এবং পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিও আবার চাঙ্গা হবে। একই সঙ্গে তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে গত প্রায় দুই বছরে কলকাতার পর্যটননির্ভর অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধুঁকেছে। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প পেশায় চলে গেছেন, আবার অনেক কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জায়গায় নতুন ধরনের ব্যবসাও গড়ে উঠেছে।

একই পরিস্থিতি দেখা গেছে ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোলে। বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর নির্ভর করে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে ভ্রমণকারী বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন বাংলাদেশিরা। ওই বছর প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করেন। তবে পর্যটন ভিসা সীমিত হয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12565 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 08:24:06 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh