• হোম > খেলা | ফুটবল > ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

  • শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৭
  • ৫৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে উভয় পক্ষই নিজেদের অভিযানের কথা জানালেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। অন্যদিকে তেহরানও অভিযোগ করেছে, চুক্তি প্রথমে ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। অভিযানের সাদাকালো ভিডিওও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ অভিযানকে সফল বলে দাবি করেছেন।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের একটি জেটি সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পরে ইরানের নৌবাহিনী ওই এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে কোনো পক্ষের হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।’ একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র তা পুরোপুরি মেনে চলেছে। সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি থাকলে তেহরানের আলোচনার পথ বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একটি অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর উদ্দেশে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

তবে শনিবার মেহর নিউজ এজেন্সি হরমোজগান প্রদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় সিরিক বন্দরের অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশা করা হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12563 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 01:28:23 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh