• হোম > বাংলাদেশ > বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও ব্রিকস সদস্যপদ লাভে চীনের সমর্থন; কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করছে দুই দেশ

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও ব্রিকস সদস্যপদ লাভে চীনের সমর্থন; কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করছে দুই দেশ

  • শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ২২:৪২
  • ৭৬

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও ব্রিকস সদস্যপদ লাভে চীনের সমর্থন; কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করছে দুই দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি, ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষায় সমর্থন এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-এর অংশীদার হওয়ার প্রচেষ্টায় বেইজিংয়ের জোরালো সমর্থন।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে ২২ থেকে ২৬ জুন সরকারি সফরে চীন যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স-২০২৬-এ অংশ নেন। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক আস্থা ও সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। নতুন যুগের চাহিদা বিবেচনায় দুই দেশ তাদের ‘ব্যাপক কৌশলগত সমবায় অংশীদারিত্ব’ আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত ‘কৌশলগত সংলাপ’ চালু এবং ভবিষ্যতে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২ সংলাপ’ শুরুর বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বাংলাদেশ আবারও ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিংই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।

দুই দেশ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি শতভাগ শুল্ক লাইনে শূন্য-শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের উন্নয়নেও যৌথভাবে কাজ করবে দুই দেশ।

যৌথ বিবৃতিতে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে সামরিক সফর, প্রশিক্ষণ ও প্রতিনিধি বিনিময় বাড়ানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি, যুব, ক্রীড়া ও জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বহুপাক্ষিক কূটনীতিতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার হওয়ার আবেদনকে চীনের সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছে চীন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বেইজিং এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সরকার ও জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12541 ,   Print Date & Time: Monday, 17 August 2026, 03:49:09 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh