• হোম > রাজনীতি > বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন শি জিনপিং

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন শি জিনপিং

  • শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১৮:২৪
  • ৩৮

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ ও চীন ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে চীন দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একই সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বেইজিং।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা আরও জোরদার করতে শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময়, কৌশলগত সংলাপ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ সম্প্রসারণে চীন কাজ করে যাবে।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান শি জিনপিং। তিনি বলেন, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) বাস্তবায়নের পাশাপাশি সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী চীন।

এছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (CMBC) এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করে শি জিনপিং বলেন, উভয় দেশ সমতা, বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে যৌথভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ ও দুই দেশের বৈধ অধিকার রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মডেল। বাংলাদেশ অর্থনীতি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে চায়।

তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে এক চীন নীতি অনুসরণ করে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠন এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব উদ্যোগে বাংলাদেশ পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে চীনের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-সহ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12511 ,   Print Date & Time: Monday, 17 August 2026, 05:37:12 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh