• হোম > বাংলাদেশ | বিচার বিভাগ > বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির পথে আপাতত বাধা নেই, চেম্বার আদালতের আদেশ

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির পথে আপাতত বাধা নেই, চেম্বার আদালতের আদেশ

  • বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১৮:১৮
  • ৬৩

 ---

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির পথে আপাতত বাধা নেই

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

চেম্বার আদালতের এই আদেশের ফলে সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া আপাতত স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।

আদালত আগামী ২৯ জুন বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন। ওই শুনানির পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

এর আগে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমুদ্রাঞ্চলের অফশোর ব্লকগুলোতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের জন্য বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ অপরিহার্য। হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকলে সরকারের চলমান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে সরকার ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ ঘোষণা করে। এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি ব্লক আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক এবং ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক রয়েছে।

সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি), কর সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ প্রণোদনার ব্যবস্থাও করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ক্রমাগত কমে আসছে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। ফলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সর্বশেষ আদালতের আদেশে অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। তবে আগামী ২৯ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত শুনানির পর বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12477 ,   Print Date & Time: Sunday, 16 August 2026, 04:42:58 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh