![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের অটোমোবাইল শিল্পকে এগিয়ে নিতে গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণের নীতিমালায় বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে স্থানীয়ভাবে তৈরি, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংক ঋণের সীমা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধির ওপর থাকা এক পুরোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সাধারণ গাড়ি কেনার জন্য বীমাসহ সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। তবে গ্রাহক যদি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি গাড়ি, হাইব্রিড গাড়ি কিংবা ইলেকট্রিক গাড়ি কেনেন, তবে ঋণের সীমা হবে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্য সদস্যদের নেওয়া ঋণও এই সীমার মধ্যেই গণ্য হবে।
গাড়ি ঋণের ক্ষেত্রে নিজস্ব মূলধন ও ব্যাংকের বিনিয়োগের অনুপাতেও (ডেট-ইকুইটি রেশিও) বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ গাড়ি ঋণের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ৬০:৪০। তবে পরিবেশবান্ধব এবং দেশীয় গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা বড় সুবিধা পাবেন। এই ধরনের গাড়ি কেনার জন্য ঋণ-ইকুইটি অনুপাত হবে ৮০:২০। এর মানে হলো, গাড়ির দামের মাত্র ২০ শতাংশ টাকা গ্রাহককে নিজে দিতে হবে। বাকি ৮০ শতাংশ টাকাই ব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে।
নীতিমালার আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে। ভোক্তা টেকসই পণ্য ক্রয়ের ঋণসহ সব ধরনের ব্যক্তিগত ঋণের মূল্য পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই ঋণের মেয়াদ এখন সর্বোচ্চ ৮ বছর পর্যন্ত হতে পারবে। এ ছাড়া ভোক্তা ঋণের ওপর থাকা আগের একটি কঠোর নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। আগে নিয়ম ছিল, একটি ব্যাংকের সামগ্রিক ঋণের প্রবৃদ্ধির চেয়ে ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই বেশি হতে পারবে না। নতুন সার্কুলারে এই নিয়ম প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভোক্তা ঋণ বাড়াতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগের ২০০৪, ২০১৭ এবং ২০২৬ সালের মে মাসের সার্কুলারের অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় গাড়ি উৎপাদন খাত বড় ধরনের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়বে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।