![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর অগ্রাধিকার, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অগ্রাধিকার ও পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই সেমিনারে দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি খাত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক হ্রাসসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চলতি অর্থবছরেই যেখানে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মেগা প্রকল্পগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক। তিনি বলেন, বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ জোরদারেরও পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাজেটে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুবিধা ঘোষণাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান আয় ও সম্পদ বৈষম্য কমাতে বাজেটে আরও কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ থাকা প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দিনাজপুরের কয়লা উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিবেচনার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচকরা আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য শুধু বাজেট ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বরং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত ও বিশ্লেষণ শোনেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।