আর্জেন্টিনা–জর্ডান ম্যাচে বিতর্কিত রেফারি কোভাচ, ফুটবল বিশ্বে বাড়তি আলোচনা
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের লড়াইকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে রেফারি নিয়োগ। ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন রোমানিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি ইস্তভান কোভাচ, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
ইতোমধ্যে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি মূলত আনুষ্ঠানিকতার হলেও রেফারি ইস্যু ম্যাচটিকে আলাদা গুরুত্ব এনে দিয়েছে।
৪১ বছর বয়সী কোভাচ চলতি বিশ্বকাপে এর আগে জাপান ও তিউনিসিয়ার মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাজারতম সেই ম্যাচে জাপান ৪-০ গোলের বড় জয় পেয়েছিল। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ মনোভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
তবে সম্প্রতি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ম্যাচে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সম্ভাব্য লাল কার্ড ও হ্যান্ডবলের ঘটনায় যথাসময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলেও সমালোচনা থামেনি।
ওই বিতর্কের পর উয়েফা তাকে মৌসুমের বাকি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার প্রত্যাবর্তন ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হওয়া কিছু নতুন নিয়ম নিয়েও চলছে আলোচনা। বিশেষ করে ‘মুখ ঢেকে রাখা’ আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড প্রদানের ক্ষমতা রেফারিদের হাতে থাকায় খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিত কোভাচ এই নিয়ম কতটা প্রয়োগ করেন, সেদিকেও নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
রেফারি হিসেবে কোভাচের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ৩২১টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এসব ম্যাচে তিনি ১,৭৩৯টি হলুদ কার্ড এবং ৫৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, যা তার কঠোর রেফারিং স্টাইলেরই প্রমাণ।
চ্যাম্পিয়নস লিগেও রয়েছে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। ইতোমধ্যে ৩৭টি ম্যাচ পরিচালনার পাশাপাশি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া উয়েফা কনফারেন্স লিগ ও ইউরোপা লিগের ফাইনালেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই রোমানিয়ান রেফারি।
আর্জেন্টিনা–জর্ডান ম্যাচে কোভাচকে সহায়তা করবেন সহকারী রেফারি মিহাই মারিকা ও ফেরেঞ্চ তুনইয়োগি। চতুর্থ রেফারি হিসেবে থাকবেন মৌরিতানিয়ার দাহানে বেইদা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাঙ্গোলার জেরসন সান্তোস।
সব মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিং নিয়েও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা–জর্ডান ম্যাচকে ঘিরে। কোভাচের অতীত বিতর্ক, কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা এবং বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম—সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।