ভারতের নাম ব্যবহার করে সরকারি চিঠি, ঘুষ-অনিয়মে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসলাম খানের বিরুদ্ধে ঘুষ, অসদাচরণ, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে ৩২ বার বদলি এবং প্রায় ১০টি বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে তিনি ভারত সরকারের নাম ব্যবহার করেছেন। তার পাঠানো কিছু সরকারি চিঠির শীর্ষে ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া সাবকন্টিনেন্ট’ লেখা ছিল, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আসলাম খানের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ না করার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর না করায় কয়েকজন কর্মকর্তা ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইয়াসমিন নাহার রুমা, যিনি আগে বিজয়নগরের ইউএনও ছিলেন, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) মৌখিক অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীদের অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিষয়টির প্রতিকার চেয়েছেন।
শিক্ষার্থীপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক বিতরণসংক্রান্ত এক সভায় আসলাম খান মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকরা আপত্তি জানালে তিনি সভা ত্যাগ করেন। পরে উপজেলার ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যৌথভাবে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মাদকসেবন ও বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ
বিজয়নগরে যোগদানের আগে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কর্মরত অবস্থায় তার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। একটি ভিডিওতে তাকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তিনি মাদকসেবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং ফেনসিডিল সেবনের কথাও স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুগ্ম সচিবকে গালমন্দ, নারী কর্মকর্তাকে হুমকি
২০২৪ সালে বান্দরবানের থানচিতে কর্মরত অবস্থায় এক অনলাইন প্রশিক্ষণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলাও হয়।
সম্প্রতি মাউশিতে ডাকা হলে তিনি এক নারী কর্মকর্তাকে গালমন্দ করেন এবং অন্য কর্মকর্তাদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশে অভিযোগ করা হয়নি।
মাউশির সহকারী পরিচালক কামরুন্নাহার রীমা বলেন, আসলাম খানের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল।
মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেখানে তাকে বদলি করা হয়েছে, প্রায় সব জায়গাতেই একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসার পর তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আসলাম খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন সিদ্ধান্ত নেবে।