• হোম > বাংলাদেশ > সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ, আগের পরিকল্পনাতেই এগোবে প্রকল্প

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ, আগের পরিকল্পনাতেই এগোবে প্রকল্প

  • বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১৪:৪৫
  • ৬৩

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের নির্ধারিত রুটে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পক্ষ থেকে রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার মধ্যে ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন মিশ্র গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এই রেললাইন চালু হলে সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব প্রায় ১১৪ কিলোমিটার কমে যাবে এবং যাত্রার সময়ও প্রায় তিন ঘণ্টা হ্রাস পাবে।

বর্তমানে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী ট্রেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও সান্তাহার হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। নতুন রেলপথ নির্মিত হলে ট্রেন সিরাজগঞ্জ থেকে কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, শেরপুর, শাজাহানপুর ও কাহালু হয়ে সরাসরি বগুড়া শহরে প্রবেশ করবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১৬ জুন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব এবং প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করার পর প্রধানমন্ত্রী আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের মৌখিক নির্দেশ দেন।

প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। শুরুতে ভারতীয় ঋণ সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ালে নতুন অর্থায়নকারী হিসেবে এগিয়ে আসে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।

এ কারণে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন থেকে বাড়িয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সময়মতো কাজ শুরু না হওয়া, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত সেতু ও ওভারপাস সংযোজন এবং জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

কী চেয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী?

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নতুন রেলপথটি বগুড়া শহরে না নিয়ে রানীরহাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, এতে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতো এবং বগুড়া শহরের ভেতরে থাকা পুরোনো রেলপথের কারণে সৃষ্ট যানজটও কমত।

এ লক্ষ্যে তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে বিদ্যমান কাহালু–বগুড়া–গাবতলী রেললাইন অপসারণেরও প্রস্তাব করেছিলেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শহরের ভেতরে থাকা একাধিক রেলক্রসিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং নগরজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তবে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে গেলে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ, নতুন জমি অধিগ্রহণ এবং নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো। এতে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় আরও বৃদ্ধি পেত।

রেল কর্তৃপক্ষের অবস্থান

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং রুট পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত পথেই রেললাইন নির্মাণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বগুড়া শহরে বিদ্যমান রেললাইনের কারণে যানজটের যে সমস্যা রয়েছে, তা আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, শহরের ভেতরের পুরোনো রেললাইন তুলে ফেললে বিপুল সরকারি সম্পদ পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে এবং স্থানীয় জনগণের বিরোধিতারও মুখোমুখি হতে হতে পারে।

জমি অধিগ্রহণে ব্যয় বৃদ্ধি

প্রকল্পের জন্য শুরুতে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। সে সময় এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে চূড়ান্ত জরিপ ও মূল্যায়নের পর জমির পরিমাণ কমে ৯০১ দশমিক ৭৭ একর হলেও জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

প্রকল্পে যা থাকছে

প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার শাখা রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া করতোয়া ও ইছামতী নদীর ওপর দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ রুটে মোট ১১টি রেলস্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রানীরহাটে নতুন স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12435 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 12:58:44 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh