• হোম > অর্থনীতি > সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫,৯০৩ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫,৯০৩ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:২১
  • ৪৭

সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫,৯০৩ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে সক্ষম রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

লিখিত প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, তাদের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়া ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এই সহায়তার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংকটে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী জানান, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ অথবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত দেড় বছরে দেশের বেশ কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে আমানত উত্তোলনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তারা এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না এবং টাকা তুলতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল তদারকি এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংক খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকার ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকও সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তঃব্যাংক সহযোগিতা এবং নীতিগত সুবিধা প্রদান করে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12401 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 05:20:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh