• হোম > অর্থনীতি > ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন

  • বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১৭:৪১
  • ৭৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ মঞ্জুর করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর পাশাপাশি সংকটে পড়া ব্যাংকিং খাতের উত্তরণ এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলবে এই তহবিল। বুধবার সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অনুদান মূলত আমানত রক্ষা তহবিলের পুঁজি বাড়াতে এবং বেশ কিছু জরুরি সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ব্যয় করা হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্যকর আমানত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো তৈরি, ব্যাংক পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রে মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত সুশাসনের অভাব, ঋণ বিতরণে দুর্নীতি ও নানা অনৈতিক সুবিধার কারণে গুরুতর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯%) চেয়ে বহুগুণ বেশি। তদুপরি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে এই প্রসঙ্গে জানান, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মোট আর্থিক সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে এই খাত চরম চাপের সম্মুখীন। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশকে এমন কিছু কৌশল ও ব্যবস্থা সরবরাহ করবে যা সাধারণ সঞ্চয়কারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, আর্থিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং পুরো ব্যাংকিং খাতে স্থিতি ফেরাবে, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জঁ পেসমে আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এটি সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাস এবং তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং তথ্যভিত্তিক তদারকি জোরদার করবে। প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সমন্বয় করে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা মূলত সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12385 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 01:29:38 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh