• হোম > বাংলাদেশ | শিক্ষা > এক দেশ, এক প্রশ্নপত্র: শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা

এক দেশ, এক প্রশ্নপত্র: শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা

  • বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১৬:০৯
  • ৭৬

---

সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে আগামী বছর থেকে: শিক্ষামন্ত্রী

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা ইতোমধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে একক প্রশ্নপত্রের আওতায় এনেছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের বাংলা, ইংরেজিসহ সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

প্রশ্নপত্র বিতরণে ভুল হলে কঠোর ব্যবস্থা

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বিজি প্রেস থেকে নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সঠিক কোড অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রশ্নপত্র বিতরণে কোনো ধরনের ভুল বা কোড বিভ্রাট হলে শুধু দুঃখ প্রকাশ করে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না। যার দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষক নিয়োগে মামলা নিয়ে ক্ষোভ

শিক্ষা খাতে নিয়োগ জটিলতা ও মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে মামলা দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও আদালতে মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, “যারা শিক্ষা খাতের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করছে, তারা কার্যত রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাদের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

এনটিআরসিএর উদ্দেশ্য ছিল যোগ্যতার সনদ

মন্ত্রী জানান, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো একটি রাষ্ট্রীয় সনদ প্রদান করা।

তবে পরবর্তী সময়ে এর মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “অনেক শিক্ষক বয়সের শেষ পর্যায় পর্যন্ত চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে পরিকল্পনাহীনভাবে অসংখ্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12376 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 01:28:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh