• হোম > এশিয়া | বাংলাদেশ > জাপানি বিনিয়োগে বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের উইগ, রপ্তানি জাপান-সিঙ্গাপুরে

জাপানি বিনিয়োগে বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের উইগ, রপ্তানি জাপান-সিঙ্গাপুরে

  • বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১৫:৫৯
  • ৬৫

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে উইগ বা পরচুলা শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ে জাপানি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত আর্টনেচার বাংলাদেশ লিমিটেড এখন বিশ্বমানের কাস্টমাইজড উইগ উৎপাদন করে জাপান ও সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত বাজারে রপ্তানি করছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (জাপানিজ ইকোনমিক জোন) এলাকায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। প্রায় ৪ দশমিক ৯৪ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই নারী।

প্রতিষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলো, প্রতিটি উইগ নির্দিষ্ট গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। জাপান ও সিঙ্গাপুরে থাকা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে গ্রাহকদের মাথার থ্রিডি স্ক্যান করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে মাথার আকার, মাপ ও পছন্দের রং অনুযায়ী কাস্টমাইজড উইগ প্রস্তুত করা হয়।

একটি উইগ তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় সাত থেকে আটটি ধাপ অনুসরণ করা হয়। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি উইগের বেসে চুল বসানোর কাজ পুরোপুরি আয়ত্ত করতে প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি নতুন কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আর্টনেচার বাংলাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। চলতি বছর আরও ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কোম্পানিটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কারখানার কর্মী সানজিদা আক্তার জানান, চাকরিতে যোগদানের পর তারা প্রায় ছয় মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বর্তমানে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের উইগ তৈরি করছেন। অন্যদিকে কর্মী মুরাদ হোসেন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তিনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ভালো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. তানভির রহমান বলেন, বর্তমানে তারা শুধুমাত্র হেয়ার উইগ উৎপাদন করছেন এবং ভবিষ্যতে কাঁচা ফাইবার প্রক্রিয়াজাতকরণেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সম্প্রসারণের প্রস্তুতিও চলছে।

তিনি আরও জানান, কাস্টমাইজড উইগের বাজার বাংলাদেশে এখনও পুরোপুরি গড়ে না উঠলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসার রোগী এবং চুল পড়ার সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য এসব উইগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারখানার উৎপাদন ফ্লোরে এখনও বড় একটি অংশ খালি রয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে আরও প্রায় ৮০০ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এই উদ্যোগ সফল হলে উইগ শিল্পসহ নতুন রপ্তানি খাতগুলো আরও দ্রুত বিকশিত হবে।

বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী হেয়ার উইগ ও এক্সটেনশন বাজারের আকার ছিল প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজার ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে বাংলাদেশে তৈরি উচ্চমূল্যের কাস্টমাইজড উইগ ভবিষ্যতে দেশের অপ্রচলিত রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। একইসঙ্গে এটি নারীদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12374 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 01:59:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh