• হোম > অর্থনীতি > ব্যাংকখাত বাঁচাতে ২০২৫ সালে ২১.৬৮ লাখ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকখাত বাঁচাতে ২০২৫ সালে ২১.৬৮ লাখ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৯
  • ৭৫

 ---

ব্যাংকখাতকে সচল রাখতে ২০২৫ সালে ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক:

দেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ বা আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতকে সচল রাখতে মোট ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মধ্যে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেপো অপারেশনস, নিশ্চিত তারল্য সহায়তা (এএলএস), ইসলামী ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ) এবং বিশেষ তারল্য সহায়তা (এসএলএস)-এর মতো বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রচলিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত তারল্য ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ১৯ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেপো ও এএলএস সুবিধার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে স্ট্যান্ডিং লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) অবদান ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আন্তঃব্যাংক অর্থবাজার এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য অনেক ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এসব অর্থ সাধারণত স্বল্পমেয়াদে নেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করা হয়।

প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকগুলো বিভিন্ন বিশেষ সুবিধার আওতায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেয়েছে। খাতটির মূলধন পর্যাপ্ততা, আমানত প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্যাংকখাতের মূলধন পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় আরও দুর্বল হয়েছে। ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ২০২৪ সালের ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ অনেক ব্যাংক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত মূলধন ধরে রাখতে পারছে না।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে খেলাপি ঋণকে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। স্ট্রেস টেস্টের ফলাফলে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণ আরও বৃদ্ধি পেলে ব্যাংকগুলোর মূলধন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বড় করপোরেট ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ঋণ খেলাপির ঝুঁকি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

শুধু ব্যাংক নয়, ব্যাংকের বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ২০২৫ সালের শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৩৩ শতাংশের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে মূলধন পর্যাপ্ততার হারও নেতিবাচক অবস্থানে চলে গেছে।

তবে নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের স্থিতিশীলতা এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা স্বল্পমেয়াদে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর হলেও এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। ব্যাংকিং খাতকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করতে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকও সতর্ক করে বলেছে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা এখনো কার্যকর থাকলেও বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো দ্রুত মোকাবিলা না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12320 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 03:24:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh