![]()
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ হাজার ১৯১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৯ হাজার ৩৫৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী Khandakar Abdul Muqtadir।
স্পিকার Hafizuddin Ahmed-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে China-এর সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬৮ মিলিয়ন ডলার। এ সময় বাংলাদেশ চীন থেকে ১৮ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
বাণিজ্য ঘাটতির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে India। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, বিপরীতে আমদানি করেছে ৯ হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
এ ছাড়া Indonesia-এর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৩ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার, Singapore-এর সঙ্গে ২ হাজার ৮০২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার, Brazil-এর সঙ্গে ২ হাজার ৪৫০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার, Qatar-এর সঙ্গে ২ হাজার ১০৯ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং Malaysia-এর সঙ্গে ২ হাজার ১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া Saudi Arabia, Russia, United Arab Emirates, Vietnam, Argentina, Japan, Pakistan, South Korea এবং Thailand-সহ আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা, হালকা প্রকৌশল পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে European Union, China এবং India-এর সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অর্জন অথবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের কাছেও এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি চীন তাদের শুল্ক তালিকার ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী হবে বলে সরকার আশা করছে।