• হোম > বাংলাদেশ > অসম সার ব্যবহারে হুমকির মুখে মাটির স্বাস্থ্য: বিশ্বব্যাংক

অসম সার ব্যবহারে হুমকির মুখে মাটির স্বাস্থ্য: বিশ্বব্যাংক

  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ২১:১২
  • ৭৯

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের কৃষিখাতে পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যহীন প্রয়োগ নিয়ে এক ধরনের সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ কৃষকই নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফারের মতো অপরিহার্য সারগুলো অসম বা ভারসাম্যহীন মাত্রায় ব্যবহার করছেন।

বিশ্বব্যাংকের ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশস এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সঠিক বা সুষম অনুপাতে জমিতে সার প্রয়োগ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা, ফসলের উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক কৃষির টেকসই অগ্রযাত্রাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক জমিতে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে ফসফরাস ব্যবহার করছেন। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সালফার ও পটাশিয়ামের ক্ষেত্রে; প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জন চাষিই সালফারের ঘাটতি রেখে চাষাবাদ করছেন এবং ৬০ শতাংশ কৃষক পটাশিয়ামের সঠিক ডোজ ব্যবহার করছেন না। অন্যদিকে, নাইট্রোজেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একেক অঞ্চলে ও ফসলে একেক ধরনের অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। যেমন ধান চাষের ক্ষেত্রে কৃষকেরা প্রয়োজনের তুলনায় কম নাইট্রোজেন ব্যবহার করলেও পেঁয়াজ ও বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষে এর অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রবণতা বেশ স্পষ্ট। এছাড়া অঞ্চলভেদেও এই অমিল ধরা পড়েছে; বরিশাল ও সিলেটে যেখানে সারের কম ব্যবহারের প্রবণতা বেশি, সেখানে খুলনা ও রাজশাহীতে রাসায়নিক সার অতিরিক্ত প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই ভারসাম্যহীনতার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে মাটির স্বাস্থ্যের ওপর। বিশ্বব্যাংকের গবেষকদের মতে, অনুপযুক্ত সার প্রয়োগের কারণে জমির ক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাটি ক্রমেই অম্লীয় (অ্যাসিডিক) হয়ে উঠছে এবং এর স্বাভাবিক পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের মাটির গড় পিএইচ মাত্রা কমে ৪ দশমিক ৫-এ নেমে এসেছে, অথচ গুণগত মান বজায় রাখতে এটি ৬ দশমিক ৫-এর বেশি হওয়া প্রয়োজন ছিল। অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার ও বছরে একই জমিতে একাধিক (এমনকি ৪টি পর্যন্ত) ফসল ফলানোর ফলে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একটি আদর্শ মাটিতে অন্তত ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকা দরকার এবং সর্বোত্তম ফলনের জন্য ন্যূনতম ২ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বাংলাদেশের মাটিতে এর গড় পরিমাণ এখন মাত্র শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে কৃষকদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) এ বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুর্বল প্রচারণার কারণে তা সাধারণ কৃষকদের হাত পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে খোদ মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদেরও মাটির স্বাস্থ্য সচেতনতায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যমান জমি ও কৃষি উপকরণের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা বর্তমানের চেয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াতে পারতেন। শুধু সারের এই অসম ব্যবহার বা ভারসাম্যহীনতা দূর করা সম্ভব হলে বোরো ধানের উৎপাদন ৩৩ শতাংশ, আমন ধানের উৎপাদন ৬৫ শতাংশ এবং আলুর ফলন সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12296 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 06:32:28 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh