• হোম > অর্থনীতি > প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন হিসাব ‘এনআরসিটিএ’ চালু

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন হিসাব ‘এনআরসিটিএ’ চালু

  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১৮:৪৯
  • ১১১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) অধীনে একটি নতুন হিসাব খোলার সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট’ (এনআরসিটিএ) নামের এই বিশেষ টাকা হিসাবে জমা রাখা মূল অর্থ এবং এর বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে বিদেশে নিয়ে যাওয়া যাবে।

অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর আওতায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এফইপিডি-১) মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত সার্কুলার অনুযায়ী, প্রবাসীরা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা স্থায়ী আমানত হিসেবে এই এনআরসিটিএ হিসাব খুলতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা বৈদেশিক মুদ্রা বা নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের তহবিলকে টাকায় রূপান্তর করে এই হিসাবে জমা করা যাবে। এ ছাড়া অন্য এনআরসিটিএ হিসাব থেকে স্থানান্তর, শেয়ার আবেদনের রিফান্ড এবং সরাসরি বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ এই হিসাবে জমা করা সম্ভব হবে। বাজারভিত্তিক সুদের এই হিসাবের অর্থ যেমন অবাধে বিদেশে পাঠানো যাবে, তেমনি তা স্থানীয়ভাবে ব্যবহার এবং দেশের শেয়ার বাজারে বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) ব্যবহার করা যাবে।

সার্কুলারে এই হিসাবের তহবিলের ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত অঞ্চলের ‘টাইপ এ’ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় যেমন— বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য এই তহবিল থেকে ওবিইউর মাধ্যমে টাকা ঋণ নিতে পারবে। তবে এই ঋণের অর্থ অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইউনিটগুলো (ডিবিইউ) এই হিসাবের জামানতের বিপরীতে প্রবাসীদের বা তাদের মনোনীত তৃতীয় পক্ষকে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ঋণ দিতে পারবে। তবে রিয়েল এস্টেট খাতের উচ্চ ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতি ও অনিশ্চিত আয়ের কারণে আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগ, কৃষি বা প্ল্যান্টেশন এবং পুনঃঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রবাসীরা নিজের ব্যবহারের জন্য আবাসন ক্রয় বা অফেরতযোগ্য সরাসরি বিনিয়োগে এই ঋণ ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন এই ব্যবস্থার সার্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা আরও সহজ হবে। ব্যাংকগুলোকে অনলাইন ইন্টারঅ্যাক্টিভ ওয়েব প্ল্যাটফর্ম এবং ইলেকট্রনিক ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই হিসাব খোলার সুবিধা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার কার্যক্রম শুরুর আগে ব্যাংকগুলোকে পণ্যের বৈশিষ্ট্য, পরিচালন পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সাথে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) প্রক্রিয়া, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) মানদণ্ড এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12291 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 08:18:14 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh