• হোম > উত্তর আমেরিকা | বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র, অর্থনীতিতে স্বস্তির আশা

ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র, অর্থনীতিতে স্বস্তির আশা

  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১৬:০১
  • ৬৪

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র, অর্থনীতিতে স্বস্তির সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির পর তেহরানের তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় দুই দেশ নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে পারলে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করার পাশাপাশি দেশটিকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের জ্বালানি খাতকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা শিথিল হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

বছরের পর বছর কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিভিন্ন দেশের কাছে তেল রপ্তানি করে এসেছে ইরান। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকায় ক্রেতারা ইরানি তেল কিনতে বড় ধরনের মূল্যছাড় দাবি করতেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হতো তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পরিস্থিতিতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের কাছাকাছি দামে তেল বিক্রির সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস মজুদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে ইরান। নতুন এই সুবিধা দেশটির রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে আরও কয়েকটি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সাময়িক ছাড় আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধার পথ খুলতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ শুধু ইরানের জন্যই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে এলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12250 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 09:38:57 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh