• হোম > রাজনীতি > আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১৪:৪৪
  • ৬৫

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেই বিচারের পরই বিষয়টি নির্ধারণ হবে।”

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু দলটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, তাই সন্ত্রাস দমন আইন-২০০৯-এর আওতায় তাদের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় যদি তারা কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে চায়, তাহলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে। সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না যে আওয়ামী লীগের এখন সেই ধরনের নৈতিক সাহস আছে। বড় গলায় কথা বলতে হলে মানুষের স্মৃতি মুছে যেতে হবে। অতীতের কর্মকাণ্ড মানুষ ভুলে না গেলে তাদের পক্ষে জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করা কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “লুটপাটকারী, মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের সাধারণত নৈতিক শক্তি খুব বেশি থাকে না। জনগণ সবকিছু দেখেছে এবং মূল্যায়নও করছে।”

একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের জন্য কতটা উপযোগী—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “গণতন্ত্রের মধ্যেও কিছু মৌলিক নীতি ও সীমারেখা রয়েছে। কোনো দল যদি সেই সীমারেখা অতিক্রম করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তার অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।”

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এমন নজির রয়েছে, যেখানে জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বা অস্তিত্ব নিয়ে আদালতে আলোচনা হয়েছে।”

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য জনসমর্থনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ধরে নিলাম একটি দলের প্রতি ৫০ শতাংশ মানুষের সমর্থন আছে। কিন্তু যদি সেই দল গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের বাইরে চলে যায়, তাহলে শুধু জনসমর্থনের ভিত্তিতে তাকে অবাধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া যায় না। গণতন্ত্রেরও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও চেকলিস্ট রয়েছে।”

তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া। আদালত যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সরকার সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলবে। কারণ এটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12223 ,   Print Date & Time: Wednesday, 23 September 2026, 12:46:16 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh