![]()
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ কিংবা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
আরাগচি আরও দাবি করেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে, যা লেবাননে সামরিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়নের তদারকিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও মনিটরিং ব্যবস্থা গঠনের বিষয়েও দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীনভাবে আলোচনা চলে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
তবে বৈঠক চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য চলমান আলোচনা সংক্রান্ত সমঝোতার চেতনার পরিপন্থী। যদিও বৈঠক থেকে ওয়াকআউটের গুঞ্জন ওঠে, মধ্যস্থতাকারী ও মার্কিন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা পুরো সময়জুড়েই অব্যাহত ছিল।
মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ নৌচলাচল নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে।
উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা এবং মধ্যস্থতাকারীরা প্রথম দফার আলোচনার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যৎ সমঝোতার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।