![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘ভূখা মিছিল’ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ১৬তম দিনে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েকশ শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন।
মিছিলকারীদের হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন, বই-খাতা, কলম এবং শূন্য থালা। এসব প্রতীকী উপকরণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার প্রতিবাদ জানান তারা।
মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অবস্থান কর্মসূচির স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘একদফা এক দাবি, এমপিও দিতে হবে’, ‘এমপিও না নিয়ে ঘরে ফিরে যাব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়া বলেন, দেশের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সরকারি বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে শিক্ষাবান্ধব উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সেলিম মিয়া বলেন, “নন-এমপিও খাতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা অন্যায়। দেশের শিক্ষা খাতের সবচেয়ে যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী দাবি হচ্ছে সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওকরণ।”
তিনি আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
সমাবেশে সংগঠনের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. মনিমুল হক, অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম, অধ্যক্ষ মো. বাকিবিল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। তারা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দেশের বিভিন্ন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। তাদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।