![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন এবং মেহেরপুর-1 আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খান-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১৫০টি গ্যাস কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টি কূপে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কূপগুলোর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় সিসমিক জরিপও জোরদার করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর বিশ্লেষণ চলছে।
এছাড়া হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার ভোলার চরফ্যাশন, জামালপুর, তিতাস, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিমসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় এলাকায় আরও বিস্তৃত ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্স-কে আরও শক্তিশালী করতে ২ হাজার এবং ১ হাজার ৫০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি আধুনিক ড্রিলিং রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের আওতায় আনতে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।