![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা Keir Starmer পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে রাজা Charles III-কে অবহিত করা হয়েছে। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার বলেন, দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে (এনইসি) সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ শুরু হবে। নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আর যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হয়, তাহলে জুলাইয়ের মধ্যভাগেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী, লেবার পার্টির নেতা পদ ছাড়ার অর্থ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো। ফলে নতুন লেবার নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।
বিদায়ী বক্তব্যে স্টারমার তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্টারমার। তিনি সহকর্মী, দলীয় কর্মী, সিভিল সার্ভিস সদস্য এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও সন্তানদের কথা উল্লেখ করে বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার পর পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান।
এদিকে, লেবার পার্টির সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন Andy Burnham। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী Wes Streeting-ও বার্নহামকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের পদত্যাগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে লেবার পার্টি আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে।