• হোম > বাংলাদেশ > দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়নে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ

দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়নে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ

  • সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১৬:২৪
  • ৮৩

 

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আধুনিক ৬ লেনের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার (অ্যাক্সেস কন্ট্রোলড) মহাসড়কে উন্নীত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ২৩২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক উন্নয়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৫৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং বাকি ১৬ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সার্ভিস লেনসহ আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে

প্রস্তুতকৃত নকশা অনুযায়ী, বিদ্যমান চার লেনের মহাসড়ককে উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনের আধুনিক এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা হবে। ধীরগতির ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন থাকবে, যা পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

মূল এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট থাকবে। ফলে যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং দ্রুতগতির যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

শহরাঞ্চলে হবে এলিভেটেড সড়ক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আওতাধীন শহরাঞ্চলগুলোতে মূল সড়ক এলিভেটেড আকারে নির্মাণ করা হবে। যাত্রাবাড়ী থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর থেকে সাগরিকা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া মহাসড়কের ব্যস্ততম ছয়টি ইন্টারসেকশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে সাইনবোর্ড, শিমরাইল, মদনপুর, বারইয়ারহাট, আবুতোরাব বাজার এবং সলিমপুর।

১০৪টি টোল প্লাজা নির্মাণ

প্রকল্পের আওতায় চারটি প্রধান এবং ১০০টি স্যাটেলাইট টোল প্লাজাসহ মোট ১০৪টি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। মহাসড়ক ব্যবহারের জন্য যানবাহনকে টোল দিতে হবে।

সড়কজুড়ে আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস), অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৯ কোটি টাকা।

বিদেশি ঋণ ও পিপিপি মডেলে অর্থায়নের চিন্তা

সওজ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে প্রকল্পের বিশাল ব্যয় বিবেচনায় এডিবির নেতৃত্বে সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) বা জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করা হতে পারে।

অন্যদিকে, পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও যাচাই করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিপি মডেলে নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হওয়ায় সড়কের মান টেকসই থাকে।

কোন খাতে কত ব্যয়?

প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মূল সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে ২৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সেতু, ফ্লাইওভার, কালভার্ট এবং অন্যান্য বড় অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।

এছাড়া ৩৫৮ দশমিক ৪০ একর জমি অধিগ্রহণে ৩ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনে ১ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দর ও অর্থনীতিতে নতুন গতি

বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য এই মহাসড়ক ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াত করে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন চলাচলকারী এই সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পণ্য পরিবহন দ্রুত হবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং দেশের প্রধান বাণিজ্য করিডোরে আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পাঞ্চল, গুদাম ও লজিস্টিক হাব গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12139 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 02:10:42 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh