![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের নতুন পোস্টার বয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইম স্কয়ারের বিশাল বিলবোর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ফুটবলবিশ্বের কাছে এটি শুধু একটি বিজ্ঞাপনচিত্র নয়, বরং এক অসাধারণ উত্থানের প্রতীক।
ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইয়ামাল। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক এবং সমর্থক তার মধ্যে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ছায়া দেখতে পান। বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সির নতুন উত্তরাধিকারী হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনি নিজের স্বকীয়তা প্রমাণ করেছেন।
স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইয়ামালের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৫৩টি গোল করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি আরও বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক।
মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন ইয়ামাল। তার দাদি মরক্কো থেকে এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে স্পেনে এসেছিলেন। জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয়ও ছিল না পরিবারের।
তবে প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে ফুটবলই হয়ে ওঠে তার জীবনের মোড় ঘোরানোর হাতিয়ার। মাতারো শহরের কয়েকজন সহৃদয় মানুষের সহায়তায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। আজ সেই সংগ্রামী শিশুই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা।
বর্তমানে ইনজুরির কারণে শতভাগ ফিট না থাকলেও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তাকে মাঠে নামানো হচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে আলোচনায় আসেন ইয়ামাল। গোল উদযাপনের সময় দুই হাতের আঙুল দিয়ে “৩০৪” চিহ্ন দেখান তিনি। এটি তার শৈশবের এলাকা রোকাফোন্ডার পোস্টাল কোড, যার মাধ্যমে তিনি শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শেকড়ের পরিচয় তুলে ধরেন।
তারকা খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেও অতীতকে ভুলে যাননি ইয়ামাল। তার ব্যবহৃত ফুটবল বুটে মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পতাকা আঁকা থাকে। এর মাধ্যমে তিনি নিজের পারিবারিক শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন।
ইয়ামালের মূল প্রেরণা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পরিবারের জীবন বদলে দেওয়া। একসময় তার মা ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করতেন। ফুটবলে সফল হওয়ার পর মায়ের জন্য বিলাসবহুল বাড়ি কিনে দিয়েছেন তিনি। একইভাবে বেকারিতে কর্মরত চাচার জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন।
বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করেন, ইয়ামালের সামনে অসীম সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। তবে প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো বলেছেন, “আমাদের সামনে যেন এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে।”
ফুটবল সাময়িকী ও বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ইয়ামাল সঠিক পথেই এগোচ্ছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারানোর পর স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে লামিন ইয়ামালকে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই বিস্ময়বালকের হাত ধরেই কি বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের ঘরে ফিরবে?