![]()
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় Kuala Lumpur-এর Shangri-La Kuala Lumpur-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সবাই মিলে ভালো থাকতে পারি।”
প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি শুধু দাবি নয়, কর্তব্য নিয়েও ভাবতে হবে। তিনি দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি—এটাই হোক আমাদের মূল চিন্তা।”
গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জনগণের ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তিনি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের বিভিন্ন বিষয়, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং এসব বাস্তবায়নের জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে অত্যন্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও ধৈর্যের প্রয়োজন হবে।
মালয়েশিয়ার পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। যদি বিদেশে তারা এমন সাফল্য দেখাতে পারেন, তাহলে দেশের উন্নয়নেও একইভাবে অবদান রাখা সম্ভব।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে তার পরিবার নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim প্রথম বিদেশি সরকারপ্রধান হিসেবে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী Zubaida Rahman উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করীম।
দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।