![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য পৃথক প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এ বক্তব্যকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন।
রাজনীতিকদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, চৈতালী চক্রবর্তী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে যে পৃথক প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরের সময় এমন বক্তব্য পরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হচ্ছে। তার মতে, কিছু ব্যক্তি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মাঠে নামেন এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন।
হাসনাত কাইয়ূম আরও বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিস্তার ঘটাতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশের জনগণ এত সহজে বিভ্রান্ত হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি রাখার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন বক্তব্য সমর্থন করতে পারে না। তিনি চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্যকে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রচারণার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তিনি মনে করেন, দেশের সব ধর্মের মানুষকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।
তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর ভারতীয় বিভিন্ন মহল বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, কিছু গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়—এমন ধারণা তৈরি করা।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে চীন ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় কিছু বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল অস্বস্তিতে রয়েছে এবং সেই কারণেই বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র সক্রিয় হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকারপ্রধানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে ভারতপন্থি কিছু গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চৈতালী চক্রবর্তী বলেন, “আপনারা বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা সনাতনীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ করব।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বক্তব্যটি প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই।